সৌন্দর্যের কদর হয় সব জায়গাতেই। সুন্দর চেহারা, সেই সাথে আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব- এই দুইয়ে মিলেই বিচার করা হয় সৌন্দর্যকে। তাই শুধু সুন্দর মুখশ্রী হলেই যেমন হয়না, তেমনই শুধু মাত্র আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব হলেও চলবে না। আধুনিক এই জীবন যাত্রায় ব্যক্তিত্বের আভা প্রকাশ করার পাশাপাশি নিজেকে সুন্দরভাবে তুলে ধরাটাও শিখতে হবে। আর নিজেকে একটু সুন্দর ভাবে তুলে ধরতে মেকআপ এর জুরি মেলা ভার। মেকআপ এর মাধ্যমে নিজেকে অন্যরূপে প্রকাশ করা নয় বরং স্বাভাবিক সৌন্দর্যকে আরো একটু সুন্দর করে উপস্থাপন করাই হলো সাজসজ্জার মূল মন্ত্র। এই মেকআপ বা সাজ সজ্জাই প্রকাশ করে আপনার রুচিশীলতা অনেকাংশেই।
তারুণ্যের সাজ সজ্জায় মানিয়ে যায় সব কিছুই। কিন্তু এর পরে? ত্রিশ ঊর্ধ্ব বয়সটা এমন একটি সময় যখন বেশিরভাগ নারীরাই সমাজে নানাভাবে প্রতিষ্ঠিত ও নানা কাজে ভালভাবে যুক্ত হয়ে যান। অনেকেই হয়তো কর্মক্ষেত্রে নিজের ভাল অবস্থান তৈরি করে ফেলেন, আবার কেউবা সংসার নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করেন। এই বয়সটাকে একেবারে তরুণদের সাথে যেমন মেলানো যায় না, তেমনি আবার বয়স্ক নারীদের সাথেও তুলনা চলেনা।
এখন প্রশ্ন আসতে পারে, তবে কি তারা সাজসজ্জা পরিহার করবেন? উত্তরটা হলো অবশ্যই না। শুধুমাত্র পরিণত বয়সে পৌঁছেছেন বলে সাজসজ্জা বাদ দিয়ে দিতে হবে কিংবা নিজের দিকে মনযোগী হওয়া যাবে না, সেই যুগ পার হয়ে গেছে অনেক আগেই। নিজেকে সুন্দর করে তুলে ধরার প্রয়োজনীয়তা যেমন তরুন তরুণীদের আছে, তেমনটা আছে আপনারও। অন্য কারো জন্য না হোক, কেবল নিজের জন্য হলেও। তবে এ জন্য চাই বয়স অনুসারে সাজসজ্জা ও নিজের ব্যক্তিত্বকে তুলে ধরার মত জ্ঞান।
কেমন মেকআপ মানাবে?
একজন নারী যদি কিশোরীদের জন্য তৈরি পোশাক পরেন তবে তাকে দেখতে যেমন ভাল লাগবেনা, সাজসজ্জা বা মেকাপের বিষয়টিও ঠিক তেমনই। একজন কিশোরী মেয়ে বা তরুণীকে যেই মেকআপে দেখতে ভাল লাগবে ,তা একজন ত্রিশ ঊর্ধ্ব নারীকে কখনই মানাবে না। এবং এই জিনিশটিই বুঝতে হবে সবার আগে। এটা বুঝতে পারলেই নিজের জন্য সঠিক মেকআপ কোনটি হবে তাও বোঝা যাবে অতি সহজেই। প্রশ্ন জাগতে পারে, তাহলে এমন নারীরা কিভাবে নিজেকে সুন্দর করে সাজাবেন যেখানে আমাদের দেশে মেকাপের নানা বিষয়ে তরুণীরাই বেশি প্রাধান্য পান? সেই সব প্রশ্নের জবাব দিতেই আমাদের আজকের এই আয়োজন।
ত্রিশের বেশি মানেই যে মেকআপ সংক্রান্ত কোন উপকরণ ব্যবহার করা বন্ধ করে দিতে হবে তা নয়। আসল হল সেই উপকরণটির সঠিক ব্যাবহার কিভাবে হবে তা বুঝতে পারা। রইলো অতি গুরুত্বপূর্ণ কিছু টিপস-
১. ফাউন্ডেশন টিএক্সপসঃ
ভারি ফাউন্ডেশন ও বেশি ফেস পাউডার এড়িয়ে চলুন আপনার ত্বক ও আপনার বয়স উভয়ের কথা ভেবেই। এর বদলে ব্যবহার করতে পারেন লুজ পাউডার বা মইশ্চেরাইজার সমৃদ্ধ টিন্টেড কোন ক্রিম বা মুজ। সেই সাথে নিজের ত্বকের ধরন ও রঙ অনুযায়ী মেকআপ সরঞ্জাম ব্যাবহার করবেন, অযথা হালকা রঙের ফাউন্ডেশন ব্যবহার করতে যাবেন না। এমনটি করলে অল্প সময় পরেই মেকআপ নষ্ট হয়ে আপনাকে বাজে দেখাতে পারে। এছাড়া মেকআপ শুরু করার আগে ত্বকে ফেস প্রাইমার ব্যবহার করতে পারেন। এতে আপনার ত্বকের বলিরেখা কম দেখাবে ও সেই সাথে রঙের সমন্বয় ঘটবে এবং ত্বকে ফাউন্ডেশন ও ব্লাশন ঠিক থাকবে অনেক সময় পর্যন্ত। কন্সিলার ব্যবহার করার সময় মাথায় রাখবেন যে হালকা রঙের কন্সিলার যেন ব্যবহার করা না হয়। এতে ত্বকের নানা খুঁত ঢেকে যাবার বদলে তা আরও প্রকট হয়ে ফুটে উঠবে। ত্বকের রঙের সাথে সামঞ্জসসপুর্ন কন্সিলার ব্যবহার করুন।
২. ব্রোঞ্জার টিপসঃ
ত্বকে উজ্জ্বলভাব আনতে ব্যাবহার করতে পারেন ব্রোঞ্জার। চেহারায় অল্প করে পিচ রঙের ব্রোঞ্জারের ব্যবহার আপনার ত্বকে সতেজ ও তেজিভাব এনে দিবে। তবে যেকোনো গাড় রঙের ব্রোঞ্জার এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন যেমন মেরুন, বাদামি বা পঙ্কিল ইত্যাদি। এসব রঙ আপনার চেহারার সতেজ ভাব নষ্ট করে তুলতে পারে সেই সাথে আপনাকে দেখাবে আরও বয়স্ক। এবং খেয়াল রাখবেন সম্পূর্ণ চেহারায় ব্রোঞ্জার ব্যবহার করার দরকার নেই, শুধুমাত্র যেসব জায়গায় সূর্যের আলো সরাসরি পড়বে সেসব জায়গায় ব্যাবহার করতে হবে যেমন চিকবোনের উপরে ও নাকে ও কপালে সামান্য ছোঁয়া দিয়ে নিতে পারেন।
আপনাদের জীবনকে সুস্থ্য, সুন্দর ও সুখময় করার জন্য নিয়মিত ভিজিট করুন
WWW.Doctorbd24.com সাইটে।মনে না থাকলে আপনি সাইট আপনার ব্রাউজারে সেভ করে রাখুন।
আর একটা অনরোধ আমাদের পোষ্ট আপনাদের সামান্যতম উপকারে আসলে পোষ্টটি শেয়ার করবেন।
আপনার স্বাস্থ্য বিষয়ক যে কোন সমস্যার জন্য এখানে কমেন্ট করে জানান।তাছাড়া অপনারা কোন ধরণের পোষ্ট চান তাও জানাতে ভুলবেন না।ধন্যবাদ
Labels: মহিলার স্বাস্থ্য, লাইফস্টাইল